ঢাকামঙ্গলবার , ২৬ অক্টোবর ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. দিরাই শাল্লার খবর
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিনোদন
  10. মুক্ত মতামত
  11. মুক্তমত
  12. মৌলভীবাজার
  13. রাজনীতি
  14. লিড নিউজ
  15. শিক্ষা

বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ও আজীবন আ’লীগ করেও নৌকার প্রার্থীর মনোনিত তালিকায় নাম নেই আমির হোসেন রেজার

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ::
অক্টোবর ২৬, ২০২১ ৪:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

“১৯৭৩-৭৪ ইং সনে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের ভিপি গোপাল সাহা-জিএস প্রদীপ রায় সেন্টু প্যানেলের পক্ষে প্রচারের মূল দায়িত্ব পালন করি আমি ও আমার সহকর্মীরা। ছাত্র ইউনিয়নের সাইফুর রহমান সমসু-বেলায়েত প্যানেল ঐ নির্বাচনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেলকে বিজয়ী করার লক্ষে ঐ সময়ে শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ছাত্রছাত্রীদের বাসায় গিয়ে ভোট চাইতাম আমি ও আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারন সম্পাদক আকমল আলী মোক্তারের পুত্র সাব্বির আহমদ সোহেল। শহরের নতুন পাড়ায় ছাত্রদের সাথে যোগাযোগের পর রিক্সাযোগে বাসায় ফেরার পথে রিক্সার গতিরোধ করে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর হামলা করে। আমার নাকে লোহার রডের বারী মেরে আমাকে গুরুতর আহত করে তারা। এ হামলার ঘটনা জানতে পেরে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ আমাকে প্রথম মহকুমা সদর হাসপাতাল অর্থাৎ তৎকালীন পুরাতন হাসপাতালে আমাকে ভর্তি করেন। ৩ দিন পর পত্র পত্রিকায় ঘটনার কথা জানতে পেরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে আসেন তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ। পরে ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করে মন্ত্রী তার হেলিকপ্টারে তুলে নিয়ে আমাকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। ভর্তির ২ দিনের ব্যবধানে আমাকে দেখতে মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ মহোদয় সহকারে পিজি হাসপাতালে আসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহোদয়। তিনি পরম মমতায় আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আমাকে সান্তনা দেন। এ সময় আমার সাথে সুনামগঞ্জ শহরের জামতলা নিবাসী ছাত্রলীগ নেতা বশির মিয়া ও আমার ছোট ভাই হাজী জাকির হোসেন শাহীনও ছিল। এই হামলার ঘটনায় মহকুমা ছাত্রলীগ সভাপতি (পরবর্তীতে নিউইয়র্ক আওয়ামীলীগের সভাপতি) নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আমার উপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র ইউনিয়নের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে শহরে ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠে। এ আন্দোলন ক্রমশ গণ আন্দোলনে পরিণত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী,সাধারন সম্পাদক শামসুল ইসলাম এখলাছ,পীর মতিউর রহমান,আব্দুল মুকিত চৌধুরী মারুফ ও সাব্বির আহমদসহ আরো অনেকে। পিজি হাসপাতালে ১৫ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়িতে বেডরেস্টে এসে দেখতে পাই আমার উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার কয়েকজন আসামীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ভাগ্যক্রমে আমার উপর হামলার মামলার আসামীরা আজ আওয়ামীলীগের হর্তাকর্তা সেজে বসে আছে। তাদের প্রেতাত্মারাই ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর তালিকায় আমার নাম পাটায়নি। একথাগুলো নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আমির হোসেন রেজার।
১৫ আগস্টের কর্মসুচি পালন এর ব্যাপারে তিনি বলেন,৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর মুশতাক সরকার আওয়ামীলীগ রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞাসহ জেল জুলুম হুলিয়া চালু করলে আমি আমির হোসেন রেজা,সামাল মিয়া,শাহীন মিয়া,ফারুক আহমদ,আমানুল্লাহ সাকিরুল ও প্রদীপ দাসসহ সকল নেতাকর্মীরা মিলে দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড,আসবাবপত্র ইত্যাদি নিয়ে আমার বাড়িতে রাখি। অফিসের দারোয়ান ছিল আব্দুল বাছিত। সেনাবাহিনী আব্দুল বাসিতকে ধরে নিয়ে অনেক অত্যাচার করে। অত্যাচার নির্যাতনের পরও সে আমাদের নাম প্রকাশ করেনি। এই সময়েই শফিকুল হক চৌধুরী বাচ্চু,নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী,সাধারন সম্পাদক এখলাছুর রহমান,পীর মতিউর রহমান,আব্দুল মুকিত চৌধুরী মারুফ,মোসাদ্দেক রাজা চৌধুরী,গোপাল সাহাগং আত্মগোপন করেন। কেউ কেউ জার্মান ইটাঁলীসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান। আমি দেশের ভেতরে থেকেই আত্মগোপনে চলে যাই। ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে শাহীন বাঙ্গালী,সামাল মিয়া,মুহিত ভট্রাচার্য,শওকত মিয়া,রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু,আমি আমরা কয়েকজন মিলে আমার বাড়িতে থাকা সাইনবোর্ড ও আসবাবপত্রসহ অফিসের সকল জিনিসপত্র এনে নতুন করে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ অফিস পুরাতন কলেজে পূর্বের মতো নতুন করে ঢেলে সাজাই। ঐ সময় জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকী আসলে জনাব আব্দুল হাই,আব্দুজ জহুর,দিলওয়ার হোসেন,আকমল আলী মোক্তার,আছদ্দর আলী মোক্তার,খলিলুর রহমান এডভোকেট,কাজী বশির উদ্দিন নানু মিয়া,কাদির মিয়া,আবু মিয়া,আয়ুব বখত জগলুল,রশীদ বখত নজরুল,বিজয় তালুকদার বিজু আমরা নিজেরা ১০০ থেকে ৫০ টাকা চাঁদা আদায় এবং ১ কেজি থেকে ৫ কেজি করে যার যার সামর্থ অনুযায়ী চাল ডাল সংগ্রহ ছাড়াও বাজার কমিটির সভাপতি আফাজ মিয়া বারী মিয়া,মতছিন মিয়াগংদের নিয়ে চাঁদা আদায় ও চাল ডাল পিয়াজ রসুন ইত্যাদি সংগ্রহ করে শহীদ মিনার ও আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে কাঙ্গালী ভোজ করতাম। আমাদের কাঙ্গালী ভোজ চলাকালে পুলিশ ও আর্মীরা এসে আমাদের অনুষ্ঠান বানচাল করে দিত। এসময় জাতির জনকের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করার মতো কোন ইমাম মুয়াযযিন পেতামনা। বিভিন্ন সময় আমরা বাজার মসজিদ,কোর্ট জামে মসজিদ এর ইমাম সাহেবদেরকে জোর করে ধরে এনে মিলাদ পড়াইতাম। তখন আওয়ামীলীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে একদিকে ছিল পুলিশ আর্মি অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল ন্যাপ জাসদ ও ছাত্র ইউনিয়ন। রাজনীতি নিয়ে তাদের সাথে প্রতিদিন আমাদের আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের দাঙ্গা হাঙ্গামা লেগেই থাকতো। পুলিশ ও মহকুমা প্রশাসন একতরফাভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতো।
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম এবং বিজয় অর্জনের শেষ ক্যাম্প হিসেবে স্বীকৃত ছিল তাদের বাড়ী ও বাংলো ঘর। তার চাচা এবাদুর রহমান ও মানিক মিয়া ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ৫নং সেক্টরের বালাট সাবসেক্টর কমান্ডার মেজর এম.এ মোত্তালিবসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পুরো বাড়িতে তাবু টানিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ শত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বসবাস করতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হেড কোয়ার্টার ছিল তাদের বাংলো ঘর ও পার্শ্ববর্তী খাদ্য গুদামের অফিস ঘর। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকতো গুদামঘরে। মুক্তিযোদ্ধারা যত আলবদর রাজাকারদের ধরে আনতেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে শাস্তি দেয়া হতো তাদের বাংলো ঘরের দক্ষিণে সুরমা নদীর পাড়ে। পরে পাঠানো হতো মহকুমা কারাগারে। এসময় বর্তমান আওয়ামীলীগের অনেক বড় নেতাদের বাপ চাচাদেরকে পিটিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের ঘটনা তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী তাদের বাড়িঘর জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে ছাই ভস্ম করে দিয়েছিল। দেশ স্বাধীনের পর তার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবাদুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ড গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব করেন।…
এসব ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সাবেক সদস্য এবং জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন রেজা দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত। দলের দুইতিন জন নেতার আস্থাভাজন হতে পারেননি বলে এবার ও চেষ্টা তদবির করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী তালিকায় মনোনীত হতে পারেননি। অথচ সরকারের গোয়েন্দা তালিকায় জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থানে রয়েছেন তিনি। সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ জনপ্রিয় ও যোগ্য ব্যক্তি হিসাবে তার নাম দলের প্রার্থী তালিকায় প্রস্তাব রাখলেও জেলার নেতৃবৃন্দ তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবীর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তার নাম বাদ দিয়ে কেন্দ্রে নতুন তালিকা সরবরাহ করেন দু একজন নামধারী নেতা। এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজার সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি দুঃখ ও ক্ষোভ নিয়ে বলেন, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের উপরে দলের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দলের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে এমন বিমাতা সুলভ দুর্ব্যবহার কখনো আশা করিনি। প্রায় সত্তর বছর বয়সের জীবনে আওয়ামীলীগ ছাড়া কোন দল করার কথা ভাবিনি। এ বৃদ্ধ বয়সে এসে যদি দলের নব্য নেতাদের কাছে ইউপি চেয়ারম্যান হবার দাবী করতে পারি না তা হলে সারা জীবন দল করার কি অর্থ থাকতে পারে ?
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের সবাই জানে,৭৪ সালে ছাত্রলীগ করার কারনে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা আমাকে জানে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। জীবন মরন সন্ধিক্ষণে দীর্ঘ কয়েক মাস হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে জখমের চিহ্ন নিয়ে আজো বেচে আছি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুনাগঞ্জের মাটি ও মানুষের নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ সে দিন আমাকে এয়ার এম্বুল্যান্সে ঢাকায় স্থানান্তরিত না করলে হয়তো বেচে থাকতাম কি না আল্লাহ জানেন। দুঃখ হয় প্রতিপক্ষ দলের যারা আমার মামলার আসামী ছিলো,যারা মামলায় জেল কেটেছে তারা আজ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে। দলের দুর্দিনে আমরা যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলকে আগলে রেখেছিলাম বিনা অপরাধে আজ আমরা দল থেকে নির্বাসিত। দলের বিপক্ষে যারা ছিলো তারা আজ পুরস্কৃত। আমাদের হাটুর বয়স দলে যাদের হয়নি তারা আজ আমাদেরকে আদর্শ শিখাতে আসে।
আমির হোসেন রেজা আরো বলেন, বিএনপি শাসন আমলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছিলাম। দলের নীতি আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি বলে, সরকারি দল বিএনপির রোষানলে পড়ে মেয়াদকালীন সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হয়নি।
বিগত ইউপি নির্বাচনে টাকা দিয়ে দলের প্রার্থী হতে হবে জেলা নেতাদের সেই আবদারের কারনে ক্ষোভে, দুঃখে ও অভিমানে দলের কাছে মনোনয়ন চাইনি। সেই অপরাধে এবার আমাকে বিদ্রোহী প্রার্থীর অপবাদ দিয়ে প্রার্থী তালিকায় নাম রাখা হয়নি। তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারো টাকার খেলা শুরু হয়েছে। দল করি দল যোগ্য মনে করলে প্রার্থী হবো। টাকা দিয়ে কখনো মনোনয়ন নিবো না সাফ জানিয়ে দিয়েছি।
তিনি বলেন, শুধু সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় নয়, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ত্যাগী ও জনপ্রিয় দলীয় প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অতীতের মতো কেন্দ্রে তালিকা সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। জেলার প্রতিটি ইউপি নির্বাচনে এ কারনে এবারও বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। বঞ্চিতদের প্রতি দলের কঠোর নীতি,বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেয়া দলের জন্য বুমেরাং হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য আমির হোসেন রেজা ১৯৭০ ইং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এইচ এমপি উচ্চ বিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ইং সনে মুজিব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ১৯৭২ইং সনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সুনামগঞ্জ মহকুমা শাখার সদস্য,১৯৭৯ ইং সনে সুনামগঞ্জ মহকুমা যুবলীগের সভাপতি,১৯৮৭ ইং সুনামগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক,১৯৯৭ইং সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও ২০২১ইং সুনামগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির ২নং সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন এমএনএ এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন এমপিএ পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী যথাক্রমে দেওয়ান ওবায়দুর রাজা চৌধুরী ও আব্দুজ জহুরের পক্ষে পিতা হাজী মোশাররফ হোসেন তালুকদার এর হাত ধরে গ্রামেগঞ্জে নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচারাভিযান চালিয়ে দলীয় প্রার্থীদের জয়লাভে ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৩ইং প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সবকটি নির্বাচনে দলীয় ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে গণ সংযোগ পরিচালনা করেন।
সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বলেন,কেবলমাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্যই নয় বরং জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ ও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির আশার্বাদপুষ্ট সৎ ত্যাগী ও নিবেদিত নেতা হচ্ছেন আমির হোসেন রেজা। তাকে নৌকার মনোনয়ন দানের জন্য আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
দল মনোনয়ন না দিলে দলের প্রার্থী হবেন কি না? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সারা জীবন দলের প্রতি আনুগত্য থেকেছি। বয়স হয়েছে আগামীতে আর নির্বাচন করতে পারবো কি না জানিনা। এখনো ভাবিনি কি করবো। এলাকাবাসীর মতামত নিয়ে সময়ে সিদ্ধান্ত নেবো। দলের কাছে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করি। সে আদর্শ বুকে লালন করে মরতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবসময় আস্থাশীল। শেখ হাসিনাকে নেতা মানি বলে সবাইকে নেতা মানতে হবে তাদের ভুল সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিতে হবে সে নীতিতে বিশ্বাস করিনা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,ইউনিয়ন কমিটি ও উপজেলা কমিটি যেসব প্রার্থদের নাম পাটিয়েছে আমরা সেগুলো ফরওয়ার্ড করেছি মাত্র।এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একটা সিদ্বান্ত আছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নাম প্রেরণ না করার জন্য হয়তো এ কারণে থানা ও ইউনিয়ন কমিটি রেজা ভাইর নাম পাটায়নি। তবে বিশেষ বিবেচনায় তাকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হলে আমরা তার পক্ষে নির্বাচন করবো। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক মোবারক হোসেন এর বক্তব্য জানতে চাইলে তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।