ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ আগস্ট ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. দিরাই শাল্লার খবর
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিনোদন
  10. মুক্ত মতামত
  11. মুক্তমত
  12. মৌলভীবাজার
  13. রাজনীতি
  14. লিড নিউজ
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাওর আর শুভ্র আকাশের মিতালি

রাব্বি হোসেন, কিশোরগঞ্জ থেকে ফিরে:
আগস্ট ৩১, ২০২১ ৩:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্ষা মৌসুমে যতদূর দুচোখ যায় শুধু জলরাশি। বর্ষায় নীল জলরাশি ডুবিয়ে দেয় দিগন্ত সীমার সবটুকু। জলের উপর দিয়ে নৌকা করে ছুটতে ছুটতে চোখে পড়বে দূরে জমাট কচুরিপানা, অথচ একটু পরই যায় ভুল ভেঙে। কচুরিপানা নয়, তা বিলের বিশাল জলরাশির বুকে জেগে উঠা বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট গ্রাম। জেগে উঠা একেকটি গ্রাম যেনো একেকটি দ্বীপ। হাওরজুড়ে গলা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হিজল গাছ, কিছু পরপর শুশুকের লাফ-ঝাপ, ছোট্ট ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকায় জেলেদের কর্মব্যস্ততার দৃশ্যই জানান দেয় সৌন্দর্যে অপার স্থান কিশোরগঞ্জের মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রাম হাওয়ের কথা। হাওরের বুকে চিরে নৌকায় ছুটে চলে আর ৩৫ কিলোমিটারের পিচঢালা পথে এগোতে এগোতে ভাবনার জগতে মনে হতে থাকে দূরের শুভ্র আকাশটা এই বুঝি বিলের জলে নেমে এলো। এই বুঝি আকাশটা ক্লান্ত হয়ে নীল জলরাশিতে শরীর ডুবিয়ে দিলো। পিচঢালা সড়কের দিকে পাখির চোখে তাকালে মনে হয় নীল জলরাশির উপর কেউ আপন হাতে কালো মসৃণ কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে। এক বিকেলে যেনো হাওরে যাওয়া যায়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সৃজনশীল উদ্যোগের ফলে হাওর অঞ্চল কিশোরগঞ্জের (মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রাম) তিনটি উপজেলাকে সংযোগ করেছে যে পিচঢালা সড়ক। জলের উপর শোভা পাচ্ছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। বিদ্যুৎ যেখানে স্বপ্নের মতো ছিলো সেখানে আজ হাতের মুঠোয়। পিচঢালা সড়ক, নীল জলরাশি আর হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখন দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসে। প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক গিয়ে ভিড় জমায় সেখানে। কিশোরগঞ্জের স্থানীয়দের মাঝে যুগ যুগ ধরে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে— ‘বর্ষাকালে নাউ শুকনাকালে পাও’। বিশাল পিচঢালা পথ তৈরির ফলে প্রবাদটি যেনো বিলের বুকে মিশে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে। এখন আর শুকনো মৌসুমে বিশাল বিলে হেঁটে ফসল লাগাতে যেতে হয় না। পিচঢালা পথ হাওরের মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে দিয়েছে। পর্যটকদের কাছে বিলাসের উপকরণ হলেও স্থানীয় মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ। হাওর, পিচঢালা রাস্তার উপরই এখন অধিকাংশ মানুষের জীবিকা চলে বর্ষাকালে। নৌকা, অটোরিকশা দিয়ে পর্যটক পারাপার করে, হাওর থেকে মাছ ধরে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে, পিচঢালা পথের উপর ছোট্ট ছোট্ট টঙ দোকান, রেস্টুরেন্ট দিয়েই হাওরের মানুষদের বর্ষাকালে জীবিকা নির্বাহের রসদ। গত ২৮ আগস্ট প্রতিবেদকসহ একটি দল হাওর ভ্রমণে গিয়ে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন বৈচিত্র্য সম্পর্কে তুলে ধরেছেন। মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রামের স্থানীয়দের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। হাওরের বুকে নৌকা চালানো স্থানীয় এক মাঝি বলেন, ‘আগে আমাদের তেমন একটা আয় রোজগার হইতো না। যহন এই রাস্তা হইলো আর দূর থেকে মানুষ আসতে লাগলো দেখতে তহন আমাদের ভাগ্য খুলে গেলো। আল্লাহর একটা রহমত এই হাওর। এখন আমরা ভালা আছি কামাই রোগজার হয়। আগে শুকনাকালে তো কোনো নৌকাই চলতো না। আর বর্ষাকালেও এখনের মতো মানুষ আসতো না। রাস্তা হওয়ার কারণে মানুষ আহে। আমগো রাষ্ট্রপতি আমাদের জন্য এইডা উপহার দিছে, আমরা উনাকে সালাম জানাই। মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রাম হাওরে ঢাকা ঘুরতে আসা সাব্বির আহমেদ নামের এক পর্যটকের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমরা সবাই একপ্রকার বন্দি জীবন পার করছি। কাজের ব্যস্ততার কারণে ঢাকার বাইরে তেমন একটা ঘুরার সুযোগ হয় না। কাজের ব্যাস্ততাকে ছুটি দিয়ে শহর থেকে পালিয়ে হুট করেই কিশোরগঞ্জের এই হাওর ভ্রমণে চলে এসেছি। এসে রীতিমতো অবাক হয়েছি, কারণ এত সুন্দর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আগে কোথাও দেখিনি। চারদিকে থৈথৈ জলরাশি আর জলে উপর পদ্মপাতার মতো ভেসে আছে ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম। এমন নৈসর্গিক দৃশ্য যেনো রূপকথাকে হার মানিয়ে দেয়। মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রাম হাওরের ভ্রমণ এককথায় অসাধারণ।

শামিম হোসেন শিশির নামে এক পর্যটক বলেন, মিঠামইন হাওর এককথায় অসাধারণ। পিচঢালা রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে মনে হয়েছে দূরের আকাশ যেনো পানিতে নেমে এসেছে। ব্যাস্ততাকে ফেলে দিয়ে ঢাকা থেকে এখানে ঘুরতে এসে এক মুহূর্তের জন্যও মনে হবে না যে, সময় লস হয়েছে। মনে প্রশান্তি এনে দেয়ার মতো দারুণ জায়গা। আল-আমিন মাসুদ নামে আরেক পর্যটক বলেন, হাওর ভ্রমণে এসে অনেক ভালো লাগছে। এত মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে প্রাণ ভরে গেছে। বিলের বিশাল জলরাশিতে ঘুরে বেড়ানোর যে আনন্দ তা মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রাম না এলে বোঝার জো নেই।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।