জামালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে মালীদের আকুতি

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২৬ PM, ১৭ জুলাই ২০২১

মোঃ ওয়ালী উল্লাহ সরকার,জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
সুইপার, ঝাড়–দার আবার কেউ বলে মালী। শহর কিংবা হাটে বাজারে পেশা হিসাবে আবর্জনা পরিস্কার ও মল-মূত্র নিস্কাসনের কাজ করে যারা, তাদেরকেই বলা হয় মালী। মালী সম্প্রদায় সমাজের অবহেলিত একটি জাতি। এই পরিচয় নিয়ে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গে মিশাতো দূরের কথা হোটেলে বসে খেতেও পারেনা এ সম্প্রদায়ের মানুষজন। সবার মতো সেলুন কিংবা অন্যান্য জায়গায় অধিকার নেই তাদের। স্কুলে পড়তে গেলেও পরিচয় দিলে অন্য দৃষ্টিতে দেখে ছেলে-মেয়েরা। সবাই এমন ভাব করে তারা যেন মানুষ নয় মালী। মালীরা ভোরের আলো ফোটার আগেই নগর,বাজার পরিস্কার করে সৌন্দর্যমন্ডিত করে। সেই মালীদের জীবনের আধারই কাটছে না। মালীরা মূলত ঝাড়–দার কিংবা ড্রেনের ময়লা পরিস্কারের কাজ করে। তবে তারা শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা, চিকিৎসা, ভূমি মালিকানা সব দিক থেকেই বৈষ্যমের স্বীকার। মানুষে মানুষে বিভাজনই আসলে মালীদের জন্ম দিয়েছে। মালীদের দেশের নাগরিক হিসাবে যে অধিকার গুলো আছে। সব ক্ষেত্রেই এই অধিকারগুলো ভাগ্যে জোটে না তাদের। তারা হোটেলে কিংবা পুকুরে গোসল করতে ও নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাদের স্পর্ষ করা যেন দায়। যুগের পর যুগ অস্পৃশ্যতার বেরাজালে আবদ্ধ থেকে মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন তো দূরের কথা কথা বলতেও ভয় পায় তারা।
সরজমিনে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচ্না বাজার ইউনিয়নের মফিজনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ নানা সংকটে যেন না মরে বেচে আছেন তারা। আর্থ সামাজিক, রানৈতিক, সাংস্কৃতিক, দিক দিয়ে তারা যেন চরম বঞ্চনার স্বীকার। নিজ সমাজের কাছেই অস্পৃশ্য তারা। তাদের এই করুন জীবনের গল্প গুলো শুনার মত সময় নেই কারও। অথচ তারাই নগর, হাট, বাজারের নোংরা আবর্জনা ঘাটার অসাধ্য কাজটি করে সহজ স্বাভাবিক করে তুলেছেন নগর জীবনকে।
কথা হয় শংকর মল্লিকের সাথে সে জানায় তারা অনেক দিন থেকেই খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। করোনার লকডাউনে দোকান পাট বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের পথ বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থা কেউ এখন পর্যন্ত খবর নেয়নি। সে বলে এই সমাজে আমাদের কেউ মানুষ মনে করে না। আমরা যদি কোন কিছু খাইতে হোটেলে যাই তাহলে হোটেল মালিক আমাদের সাথে এমন ব্যবহার করে তা বলার মত না। তাই আমরা হোটেলে না বসে খাবার কিনে নিয়ে রাস্তায় বসে খাই।
হেমন্ত রানী মল্লিক বলেন আমার পাঁচ ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করছি। আমরা ময়লা পরিস্কার করি। আবার সেই ময়লাই আমাদের ঘুমাতে হয়। আমরা তো এদেশের নাগরিক। তাহলে আমরা কেন ভাল জায়গায় থাকতে পারিনা। সরকার বাহাদুর সবাইকে ঘর দিছেন আমাদের তো দেয় নাই। আমাদের চেয়ে গরীব অসহায় আর কে আছে। এখানে সেখানে থেকে মানুষের কথা শুনি।
একিই জায়গায় গোপাল মল্লিক জানান আমরা কেউ অসুস্থ হলে আমাদের পাশে কেউ থাকেনা। শুধু চিকিৎসা নয় আমাদের বাচ্ছাদের স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে অন্য ছেলে মেয়েরা হিস হিস করে। আমাদের বাচ্ছারা কি লেখাপড়ার সুযোগ পাবে না। তারা যদি লেখাপড়ার সুযোগ পাইতো তাহলে আমাদের মত ময়লা পরিস্কার করতো না। সে আরো বলেন সরকার ভূমিহীনদের ঘর দেয় জায়গা দেয় আমাদের জন্য তো কিছুই দেয় না। আমরা সরকারী খাস জায়গায় খোপরী ঘরে পরিবার নিয়ে থাকি। আমাদের ঘর দেওয়াতো দূরে কথা আরো এই জায়গা থেকে সরে যেতে বলে লোকজন। আমরা সুইপার বলে কি কোন সরকারী সুবিধা পাব না। সরকার উপজেলা চেয়ারম্যান ইউ এন ও স্যারের কাছে আমরা ভিক্ষা চাই। আমাদের একটা ঘর দেওয়া হোক।
এব্যাপারে সাচ্না বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন পাল বলেন তারা যদি বাজার পরিস্কার না করতো তাহলে আমরা বাজারবাসী ময়লা আবর্জনায় থাকতাম। মানবিক কারনে তাদেরকে একটি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রসাশনের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।
এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী, হিজরা, বেদে, মালী ও ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবারকে ভূমিসহ জায়গা উপহার দিয়ে আসছেন। মানবিক বিবেচনায় আগামীতে এই মালী পরিবারকে একটি ঘর দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :