জামালগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না ক্রেতা-বিক্রেতা

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৩৪ PM, ১৬ জুলাই ২০২১

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি::

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিধি-নিষেধের কারণে ১ জুলাই থেকে বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার খোলা হয়েছে বিপনী বিতান গুলো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গতকাল ক্রেতাদের ভীড় দেখা গেছে বাজারে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষেরই উদাসীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এছাড়া নির্ধারিত সময়ের বাইরেও কেউ কেউ কেনাবেচা করছে।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সাচনা বাজার জমিদার ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের ভীড় অনেক বেশি। মার্কেটের প্রবেশপথে জীবাণুনাশক কোন টেনেল দেখা যায়নি। মাস্ক ছাড়া মার্কেটে প্রবেশ করতে দেখে একজন প্রতিবাদ করলে লোকটি প্রতিবাদকারীর গালমন্দ করেন। প্রতিবাদীকারী বলেন, আমি তো উনাকে খারাপ কিছু বলিনি, শুধু মাস্ক পড়তে বলেছিলাম। পাশেই বাজারের মাঝখানে অসংখ্য ছোট-বড় দোকান করে রাস্তায় যানজটসহ পথচারীদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করছে।
এক ব্যবসায়ীকে মাস্ক পড়েননি কেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ক্রেতাদের সাথে লাগাতার কথা বলতে হচ্ছে। তাই মুখে মাস্ক পড়ে থাকা অসম্ভব। ক্রেতা না থাকলে মাস্ক পড়ি।

সাচনা বাজারের একটি বিপনী বিতান রবি-জয়ন্তী মার্কেটের আচল ফ্যাশনে ঢুকে ৪ জন বিক্রয় কর্মীর মাঝে দুই জনের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। অন্য দু’জনের মাস্ক ছিল। তবে তা তুথনীর নীচে নামানো। দোকানটিতে তখন কেনাবেচা করছিল একটি পরিবার। এই পরিবারের সদস্য সুলতানা ইসলাম বলেন, পণ্য বাছাইয়ের ব্যস্ততার তারা বিক্রেতাদের মাস্ক না পড়ার বিষয়টি খেয়াল করেননি।

প্রায়ই এ রকম চিত্র পাওয়া যায় পাশের দুইটি মার্কেটে। সেখানে হাত ধোয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। অনেকের দোকানে মাস্ক ছাড়া প্রবেশে কোন বাধাও নাই। মার্কেটের ভিতরে এবং বাজারে সকাল থেকে ক্রেতাদের ভীড়। ক্রেতাদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘন্টা ব্যবসায়ীরা দোকান খোলা রাখতে পারবেন বলে জানানো হলেও নির্ধারিত এই সময়ের পরও রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকছে।

এ ব্যাপারে সাচনা বাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ আল আজাদের নিকট ব্যবসায়ীদের মাস্ক পড়া বা স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারিনি। কারণ কালকে মাত্র মার্কেট খোলা হয়েছে। প্রতিটি মার্কেটের আসা-যাওয়ার রাস্তায় স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক ব্যবস্থা থাকার জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে। তাছাড়া এত মানুষ বাজারে আসে যে স্বাস্থ্যবিধি মানানোটা কঠিন হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বাড়বে। আমরা আহবান জানাই সকলেই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করেন। এ ব্যাপারে প্রতিনিয়তই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :