শাল্লায় এসআই এর উপর হামলার ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ আটক ৩

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:২৮ PM, ১৩ জুলাই ২০২১

কালনী ভিউ ডেস্ক::
সুনামগঞ্জের শাল্লা থানার এসআই শাহ আলীর ওপর রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় শাল্লা থানা সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এসআই শাহ আলী থানা থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার সময় যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপু ও তার সহযোগি ৭/৮ জন লোক দা, লোহার রড ও লোহার পাইপ নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় এসআই শাহ আলী গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজনসহ থানার পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আহত শাহ আলীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

জানা গেছে, এ ঘটনা ঘটানোর পর সন্ত্রাসীরা হাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থানা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে মহড়া দিতে দেখেছেন অনেকে। পরে শাল্লা থানার পুলিশ যুবলীগ নেতা উপজেলার নাইন্দা গ্রামের অনিল বরন চৌধুরীর ছেলে অরিন্দম চৌধুরী অপু (৩৮), ঘুঙ্গিয়ারগাও গ্রামের নারু গোপাল রায়ের ছেলে রতন রায় (২৮) ও বাহাড়া গ্রামের মিষ্টলাল দাসের ছেলে সেন্টু দাসকে (২৩) আটক করে।

উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসআই শাহ আলী বলেন, সোমবার ওসি সাহেব অনুপস্থিত থাকায় আমি সারাদিন অফিসিয়াল কাজ সেরে রাত প্রায় সাড়ে ১ টায় থানা থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার সময় অপুর সন্ত্রাসী বাহিনী দা, লোহার রড, পাইপ ইত্যাদি নিয়ে অতর্কিতে আমার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা আমাকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড, পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে আমার কপালে রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া কোমরসহ আমার হাত, পায় ও হাতের আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কেন আপনার ওপর এ হামলা করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, নোয়াগাঁওকাণ্ডে অপু তার ফেসবুকে বিতর্কিত ও উস্কানীমূলক একটি স্ট্যাটাস দিলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যার ফলে অপুর ভাই অমিতাভ চৌধুরী রাহুল এলাকার ১২/১৩ জনকে বিবাদী করে শাল্লা থানায় ইতোপূর্বে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরির পর থেকেই অপু অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমাকে চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ না থাকায় আমি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করিনি। এ কারণে অপু আমার প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল। বিভিন্ন সময়ে অপু আমাকে হুমকি-ধমকি দিত এবং আমাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ঘুঙ্গিয়ারগাঁওয়ের রামিম চৌধুরী, কলেজ রোডের আনিসুল হক আনিস ও ঘুঙ্গিয়ারগাঁওয়ের মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, অপু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এসআই শাহ আলীকে কমান্ডো স্টাইলে মারধর করেছে। আমরা আটকানোর চেষ্টা করলে আমাদেরকেও হুমকি দেয় ওই সন্ত্রাসী বাহিনী।

তারা আরও জানান, সন্ত্রাসীরা এসআই শাহ আলীকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করে এবং পরবর্তীতে তারা থানা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে সশস্ত্র মহড়া দেয়।

ওই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ও মহড়ায় কারা উপস্থিত ছিল জানতে চাইলে তারা বলেন, যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপু, ঘুঙ্গিয়ারগাঁওয়ের মৃত পঙ্কজ সরকারের ছেলে পলাশ সরকার পল্টু, নারু গোপাল রায়ের দুই ছেলে রতন রায় ও চন্দন রায়, ভাটগাঁও গ্রামের আজমান মিয়ার ছেলে আলেক মিয়া ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন ওই সন্ত্রাসী হামলায় ও মহড়ায় যোগ দিয়েছিল।

এ ব্যাপারে জানতে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর আলমের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের (পিপিএম) বলেন, ওসি অনুপস্থিত ছিলেন তা সত্যি। দায়িত্বে ছিলেন সন্ত্রাসী আক্রমণের শিকার এসআই শাহ আলী। তাই নির্দেশনার অভাবে হয়তো তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নেওয়া যায়নি। বিষয়টি আমি এখনই দেখছি।

আপনার মতামত লিখুন :