জামালগঞ্জে কুরবানীর ঈদে ব্যস্ত সময় পার করছে কর্মকারগণ

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:১৫ PM, ১২ জুলাই ২০২১

মোঃ ওয়ালী উল্লাহ সরকার,জামালগঞ্জ প্রতিনিধি::
টুংটাং শব্দে সড়গরম জামালগঞ্জ উপজেলা সাচ্না বাজারের কর্মকারগণের। খাওয়া দাওয়া ভূলে গিয়ে দিনরাত কাজ করছেন তারা। ছুরি-চাপাতি, দা, বডিদা, তৈরীর পাশাপাশি ছুরি সান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত কর্মকারগণ। তারপরও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাজার বেশি ভাল নয় বলে জানান তারা ।
আট দিন পরেই ঈদুল আযহা। তাই ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ততা বারছে কর্মকারগনের। ক্রেতারা তাদের পছন্দের ছুরি হাসুয়া চাপাতি কুড়াল মাংস কাটার জন্য বিভিন্ন ধরনের দা কিনতে ব্যস্ত। তবে গত বছর উপজেলায় বিভিন্ন কর্মকারের দোকানে দেখা গেছে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সারা বছর টুকি টাকি কাজসহ নৌকার বানানোর পাতাম লোহার কাজ থাকলে ও কুরবানীর ঈদের এই সময়টা বরাবরই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতে লোকজন ভিড় করছে কর্মকারদের দোকানে। তাই প্রতিটি কর্মকারের দোকানে শুভাপাচ্ছে পশু জবাইয়ের উপকরন।

সাচ্না বাজারে দোকানের শুকেশ কর্মকার বলেন তার বাড়ী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের কছুখালী গ্রামে। তাদের পূর্ব পুরুষরা এই ব্যবসা করতেন। তিনি প্রায় দশ বছর যাবত এই পেশায় আছেন। এখানে তার ভাইয়েরাও এই পেশায় কাজ করছেন। তিনি জানান সাড়া বছর কাজ খুব কম থাকে। কুরবানীর ঈদ এলেই কাজ বেড়ে যায়। এইবার করোনার লকডাউনে অন্য বছরের তুলনায় কাজ একদম কমে গেছে। বতর্মানে ছোট ছুরি ৫০ থেকে ৮০ টাকা, প্রতিটি দা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, হাসুয়া ২০০ টাকা। বটিদা ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং চাপাতি প্রকার ভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচ্না বাজার ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের বিধান মন্ডল জানান কুরবানীর সরঞ্জাম নতুন করে আগের মত বিক্রি হচ্ছে না। তবে পুরানো যন্ত্রপাতি সান দেওয়া হচ্ছে বেশি। তবে ক্রেতার সংখ্যা এখনো তেমন হয়নি। তবে দুই এক দিনের মধ্যে ক্রেতা বাড়তে পারে বলে জানান। পশুসরঞ্জাম কিনতে আসা আবুল হোসেন, ছমির মিয়া, জহির উদ্দিন জানান কুরবানীর ঈদের আর মাত্র আট দিন বাকী তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনে কিছু কাজ এগিয়ে রাখছেন। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে দা, ছুরি, চাপাতির দাম অনেক বেশি।
সাচ্নাবাজারের কুমুদ কর্মকার জানান ঈদ ছাড়া অন্য সময় দাম একটু কম রাখা হলেও এখন কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে। পশুজবাইয়ের সরঞ্জামাদি কয়লা, রড ও পাতের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় অন্য বছরের চেয়ে এবার একটু বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। নতুবা আমাদের লোকসান হবে।

এই ব্যাপারে সাচ্না বাজার বণিত কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ আল আজাদ বলেন ঈদ এলেই গরু জবাইয়ের জন্য দা, ছুরি, চাপাতি তৈরী করতে কর্মকারদের দোকানে ভীর দেখা যায়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় লকডাউনের কারনে লোকজনের ভীর অনেকটাই কম দেখা যায়।

আপনার মতামত লিখুন :