ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৮ জুলাই ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. দিরাই শাল্লার খবর
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিনোদন
  10. মুক্ত মতামত
  11. মুক্তমত
  12. মৌলভীবাজার
  13. রাজনীতি
  14. লিড নিউজ
  15. শিক্ষা

পৃথিবী মমতাহীন হয়ে যেন না যায়

কালনী ভিউ
জুলাই ৮, ২০২১ ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী::
কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন,‘পৃথিবীর এখন ভীষণ অসুখ। ’কবিদের চোখ আর সবার চোখের চেয়ে আলাদা। সবাই যা দেখে না কবিরা তা দেখেন। সবার চোখে যা হীরে, কবির চোখে তাই কয়লা।

সবাই যা ছাই বলে এড়িয়ে যায়, কবি সেটাকেই উড়িয়ে অমূল্য রত্নের সন্ধান পান। জীবনানন্দ দাশ দেখলেন, দুনিয়ায় এখন আর মেধার কদর নেই, সেই সত্যের আদর। সর্বত্রই মিথ্যা এবং মূর্খতার জয়জয়কার। সত্য কাজে কেউ রাজি না হয়েও নামাজি-হাজী লকব লাগিয়ে নিপাট ভদ্রলোক সেজে সমাজের মধ্যমণি হয়ে বেড়ানো মানুষগুলোর কালো চেহারা দেখে আঁতকে উঠেছেন কবি। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে লিখেছেন, পৃথিবীর এখন ভীষণ অসুখ। আজ আবার করোনার থাবায় ক্ষতবিক্ষত, জর্জরিত মানব গ্রহটি। আক্ষরিক অর্থে পৃথিবীর এখন ভীষণ অসুখই বটে। কিন্তু হৃদয়ে যাদের আলো আছে, কলব যাদের জারি আছে তারা দেখেন কলবের চোখ দিয়ে।
সবার চেয়ে ভিন্নভাবে। কলবের চোখধারী ব্যক্তির কাছে করোনা পৃথিবীর বড় অসুখ নয়। এমনকি করোনা আল্লাহর গজবও নয়। আশ্চর্য হলেও কথাটি পুরোপুরি সত্যি। ভারতের বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তরজুমানুল কোরআনে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের ব্যাখ্যায় লিখেছেন- কোনো গজবই প্রকৃত অর্থে গজব নয়।
প্রতিটি গজবের ভিতরও রহমান নামেরই খেলা চলে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন, আমরা যাকে গজব বলি বা গজব হিসেবে দেখি, তা মূলত বান্দাকে সতর্ক করার এবং তাকে আখেরাতের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচানোর উপকরণ। বান্দা গজব দেখে পাপের পথ ছেড়ে নেকের পথে আসবে এটাই গজবের উদ্দেশ্য। যা বান্দাকে নেকের পথে নিয়ে আসে তা কীভাবে গজব হয়। এ তো গজবের সুরতে রহমতেরই বর্ষণ। মাওলানা আরও বলেছেন, পৃথিবীতে যত বিপর্যয় ঘটে, তা মানুষের কার্যকলাপের মাধ্যমে ঘটে। আল্লাহতায়ালা পৃথিবীকে মেরামত করার জন্য সাময়িক যে ঝাঁকুনি দেন তা আমাদের চোখে গজব হিসেবে ঠেকে। কিন্তু সেই ঝাঁকুনি দিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় না রাখলে মানুষ ও জীববৈচিত্র্য যে এক মুহূর্তও বাঁচতে পারত না তা কি ভেবে দেখেছি! ঠিক একই কথা খাটে মহামারী করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও। করোনাভাইরাস আল্লাহ দিয়েছেন বান্দাকে সাবধান ও সতর্ক করার জন্য। পাশাপাশি প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতির ভারসাম্যের যে ব্যাঘাত ঘটেছে তা ঠিক করার জন্যও করোনাভাইরাস পৃথিবীবাসীর জন্য রহমত হয়ে নেমে এসেছে। গজবের সুরতে যেমন রহমত আসতে পারে তেমনি ‘রহমত’ও গজবের রূপ ধরে বান্দার দুনিয়া আখেরাত ল-ভ- করে দিতে পারে। করোনা এসেছে মানুষকে হেদায়াত ও আল্লাহর পথে নিয়ে যেতে। পাপের জীবন ছেড়ে আখেরাতমুখী জিন্দেগির সবক দেওয়ার জন্য এসেছে করোনাভাইরাস। কিন্তু কী হয়ে গেল আমাদের! আমরা যেন উল্টো গো ধরে বসেছি, কবে মরে যাই ঠিক নেই। যতটুকু সময় বেঁচে আছি আরও বেশি পাপ, আরও বেশি হারাম কামিয়ে নিই। হায় আল্লাহ! এ কথা লিখতেও তো কলম কেঁপে উঠছে। তুমি বান্দাকে ভালোবেসে হেদায়াতের জন্য আলামত পাঠিয়েছ অথচ বান্দা সে আলামত দেখে গুনাহর কাজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চোখের সামনেই কোটিপতি শূন্য হাতে বিনা চিকিৎসায় কবরে চলে যাচ্ছে, তবুও আমরা টাকার নেশায় চূড়ান্ত বেপরোয়া হয়ে পড়েছি। যা হওয়া উচিত নয়।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।