জামালগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবার, কাটছে মানবেতর জীবন

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:০৮ PM, ২৮ জুন ২০২১

মো.ওয়ালী উল্লাহ সরকার,জামালগঞ্জ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রাম ও বাজারজুড়ে শুরু হয়েছে সুরমা নদীর ভাঙ্গন। কয়েক বছর থেকে এই ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। এদের যাওয়ার কোন জায়গা না থাকায় আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও অন্যদের খালি জায়গায়। স্ত্রী-সন্তান ও গবাদি পশু নিয়ে এসব পরিবার বিভিন্ন খালি জায়গায় টিনের ছাপড়া ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে আমানীপুর বাজারের ৭টি দোকান এবং একই গ্রামের শতাধিক ঘর, গাছপালাসহ গ্রাম থেকে বাজারে আসা কোটি টাকার পাকা সড়ক। প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে কোন খোঁজ খবর নেওয়া হয়নি। ফলে তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে। তাদের অনেকে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অন্যের জায়গায় টিনের ছাপড়া ঘরে গাদাগাদি করে ছোট ছোট শিশু সন্তান নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন ভুক্তভোগীরা। সুরমাগর্ভে বিলীন হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বাধ্য হয়ে বাড়ির উঠার ও বারান্দার উপর দিয়ে যাতায়াত করছে।
আমানীপুর গ্রামের আবারক হোসেন, মগল মিয়া জানান, গত ৪ বছর ধরে এই গ্রামের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কয়েক মাস যাবৎ ভাঙ্গনের তীব্র আকার ধারণ করায় এ পর্যন্ত শতাধিক ঘরবাড়ি ও বাজারের ৭টি দোকানভিট সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও পাকা সড়ক গাছপালাসহ চোখের সামনে নদীগর্ভে ভেঙ্গে যায়। তারা এখন অন্যের বাড়িতে খালি জায়গায় ছাপড়া তৈরি করে বসবাস করছে। আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এলাকার নেতৃস্থানীয় লোকদের এ বিষয়ে অবহিত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য সহযোগিতায় কেউ এগিয়ে আসেনি।
সরজমিনে আমানীপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মানুষজন তাদের বাড়িঘর সরিয়ে আশপাশের খালি জায়গায় টিনের খুপড়ি করে বসবাস করছে। প্রবল ¯্রােতের ধাক্কায় বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বিদ্যুতের খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিল্টন সরকার জানান, ভিটেমাটি হারিয়ে শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ বিষয়ে সকল নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এসে নদী ভাঙ্গন দেখে যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে আমানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর সমাজপতি জানান, আমানীপুর গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। যেভাবে ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখা যাচ্ছে তাতে করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা সেকশন অফিসার রেজাউল কবীর জানান, বিষয়টি শুনেছি। সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
ভাঙ্গনের বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, আমি নিজেও নদী ভাঙ্গনে বিলীন হওয়া পরিবারগুলোকে দেখে এসেছি। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্দির ও কমিউনিটি ক্লিনিক হুমকির মধ্যে রয়েছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন :