দিরাইয়ে সুরঞ্জিতের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ১৭ বছর আজ

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:০৭ PM, ২১ জুন ২০২১

কালনী ভিউ ডেস্ক::
১৭ বছরেও শেষ হয়নি দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলার বিচার। ২০০৪ সালের ২১শে জুন পৌর শহরের শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দিরের সামনের জনসভায় গ্রেনেডটি বিস্ফোরণ হয়। অল্পের জন্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রাণে রক্ষা পেলেও মুহূর্তেই রক্তে লাল হয়ে যায় জনসভাস্থল। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলা বার বার পুন:তদন্ত করা হলেও বিচার কার্যক্রম কেবলই বিলম্বিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১শে জুন দিরাই আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন দলের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য, প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি। অকাল বন্যায় সহায় সম্বল হারানো কৃষকদের পুনর্বাসনের দাবী জানিয়ে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে কিছু দূর যেতে না যেতেই বিকট শব্দে গ্রেনেডটি বিস্ফোরণ হয়। অল্পের জন্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রাণে রক্ষা পেলেও মুহূর্তেই রক্তে লাল হয়ে যায় জনসভাস্থল। আহতদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে দিরাই। আহতদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান দলের কর্মী আব্দুল ওয়াহিদ। তিনি উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের ঠাকুরধন মিয়ার পুত্র। এডভোকেট সোহেল আহমদ, সিরাজুদ্দৌলা তালুকদার, সুজাত আহমেদ চৌধুরী,নুরুল ইসলাম সর্দার,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, প্রভাকর চৌধুরী, আব্দুর রবসহ ২৫ হন আহত হন। এ ঘটনায় দিরাই থানার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার এস.আই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরকে আসামি করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে দিরাই থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ হয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে স্থানান্তর করে পুলিশ সদর দপ্তর।

সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল জানিয়েছেন, হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। করোনার জন্যে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা যায়নি। নতুন করে সকল সাক্ষীকে আদালতে রিকল করে আনা হবে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। যত দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করা যায়-এ জন্যে রাষ্ট্র পক্ষের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সেই ওয়াহিদের মেয়ে লড়ছে ক্যান্সারের সাথেঃ

মাতারগাঁও গ্রামের দিন মজুর আব্দুল ওয়াহিদ পেশায় ছিলেন নৌকা চালক। ছোট্ট নৌকা স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে ‘ডিঙ্গি নাও’ চালিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণ করতেন। হঠাৎ করে তার মৃত্যুতে পরিবারে অন্ধকারে নেমে আসে। সম্প্রতি ওয়াহিদের মেয়ে শাহানারা বেগম (৩০) মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। কিন্তু,ব্যয় বহুল চিকিৎসা নিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দলের নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য -সহযোগিতা করলেও এখনো তাদের ভাগ্যে আনুষ্ঠানিক কোন অনুদান জুটেনি।

আপনার মতামত লিখুন :