পাগলা মসজিদের দানবক্সে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৯ টাকা

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪১ PM, ১৯ জুন ২০২১

কালনী ভিউ ডেস্ক::
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ। প্রতি তিন-চারমাস পর পর এই মসজিদের আটটি দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যায়। গত জানুয়ারিতে সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল যেখানে পাওয়া গিয়েছিল ২ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা। শনিবার (১৯ জুন) মসজিদটির দানবাক্সে পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩৩ লাখের বেশি টাকা, চার কেজির মতো সোনা-রূপা এবং বিস্তর বিদেশি মুদ্রা।কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা বলছেন, সকাল নয়টার দিকে শুরু হওয়া এই অর্থ গণনায় অংশ নিয়েছেন ১২৭ জন ছাত্র, ৫২ জন ব্যাংক কর্মকর্তা ও মসজিদ কমিটির ৩৩ জন সদস্য।কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন তত্ত্বাবধানে বিকেল নাগাদ গণনা শেষে দেখা যায়, সেখানে ছিল ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৯ টাকা। আরও ছিল প্রায় চার কেজির মত সোনা ও রূপার গহনা।বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ছিল ভারতীয় রুপি সবচাইতে বেশি। আরও পাওয়া গেছে ডলার, ইউরো, সৌদি রিয়েল, ইয়েন, দিনার ইত্যাদি বিদেশি মুদ্রা। তবে বিদেশি মুদ্রার সঠিক পরিমাণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।এরআগে গত ২৩ জানুয়ারি এই মসজিদের সিন্দুক থেকে দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তিনমাস পরপর দানবাক্সগুলো খোলার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার খোলা হলো প্রায় পাঁচ মাস পর। শেষবার গত জানুয়ারি মাসেও চার মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছিল।কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে পাগলা মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদ কেন্দ্র করে রয়েছে একটি ধর্মীয় কমপ্লেক্স। বাংলাদেশ সরকারের জেলা তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইটে মসজিদটি সম্পর্কে বলা আছে, “জনশ্রুতি আছে যে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে স্থিত হন এবং তাকে ঘিরে আশেপাশে অনেক ভক্তকূল সমবেত হন। উক্ত পাগলের মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশে পরবর্তীতে এই মসজিদটি গড়ে উঠে তাই কালক্রমে এটি পাগলা মসজিদ নামে পরিচিত হয়। মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীর কাছেই নয়, সকল ধর্মাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত”।কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে এই মসজিদটি ওয়াকফ’র আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। তখন থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মসজিদের সিন্দুক খুলে টাকা গণনা শুরু হয়েছে।তিনি আরও জানান, এখানে একটি এতিমখানা রয়েছে, এতিমখানার খরচ এই টাকা থেকে চালানো হয়। ক্যান্সার, কিডনি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ব্যক্তিদেরও এই তহবিল থেকে সাহায্য দেওয়া হয়। এই বছর এই তহবিল থেকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককে মসজিদের তহবিল থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :