নদী ভাঙনের কবলে সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের রাস্তা ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৪৩ AM, ১৩ জুন ২০২১

আল-হেলাল :
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ধোপাজান চলতি নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের জনসাধারনের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি নদী ভাঙনের কবলে পতিত হয়েছে। যত সময় যাচ্ছে ভাঙনের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এলাকার জনসাধারন অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নদীর পাড়ের ঐ রাস্তাটি দিয়ে কাইয়ারগাও,ডলুরা,জর্জড়িয়া,সাহেবনগর,সৈয়দপুর গ্রামসহ সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের লোকজন চলাফেরা করে থাকেন। রাস্তাটি সম্পূর্ণরুপে ভাঙনের কবলে পতিত হলে সাধারন মানুষের চলাচলের আর কোন বিকল্প রাস্তা থাকবেনা। সরজমিনে গেলে সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বালু পাথর ব্যবসায়ী মোঃ আবুল খায়ের,কৃষক আব্দুল মালেক,আব্দুল খালেক,দুধ মিয়া,মুসলেহ উদ্দিন,জালাল মিয়া,জাহের মিয়া,সাজু মিয়া,শুকুর আলী ও ডাঃ আবু জাফর বলেন,এই নদী ভাঙনের ফলে আমরা এলাকাবাসী,৫শত একর তিন ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা করছি। ভাঙন রোদ করতে না পারলে কয়েকশত ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হবে। এর আগেও ১৯৮৮ সালে এরকম ভাঙনের ফলে শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়। নষ্ট হয় ফসলি জমি। একদিকে নদী ভাঙন অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের প্রবল শ্রোতে গবাদিপশুসহ মানুষের বসতবাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যায়। এবং কয়েকশত একর ফসলি জমি পাহাড়ি বালির আগ্রাসনে বছরের পর বছর ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ ও বেরীবাঁধের আওতায় রাস্তাটি স্থাপন করা হলে বর্তমানে ঐ পুরাতন রাস্তা অর্থাৎ গ্রাম প্রতিরক্ষা বাধটিই ভাঙনের কবলে পড়েছে।
আমরা জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোদকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি। সুরমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আমির হোসেন রেজা বলেন,নদী ভাঙন আমার এলাকার প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামবাসীর চলাচলের নদীর তীরমুখি রাস্তাটি যেভাবে ভাঙনের কবলে পতিত হয়েছে সেই ভাঙনকে হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। জরুরি ভিত্তিতে এই ভাঙন রোধ করা না হলে এলাকার কৃষকদের কয়েকশ একর জমি ফসলের অনুপযোগী হয়ে যাবে। এবং নতুন করে ধোপাজান চলতি নদী পূর্ব দক্ষিণে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে আরেকটি নতুন নদীর সৃষ্টি হয়ে যাবে। যে ক্ষতি হবে তা পূরণ করা কারো পক্ষে সম্ভব হবেনা। তিনি জরুরি ভিত্তিতে পাউবো কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সরজমিনে পরিদর্শন করত: নদী ভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজার কাছ থেকে বিষয়টি জেনে পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামবাসীর চলাচলের নদীর তীরমুখি রাস্তাটি নদী ভাঙন হতে অনতিবিলম্বে রক্ষা করতে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবাণ জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব মতিউর রহমান ও নিউইয়র্ক আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী। জাতীয় সংসদের হুইপ সুনামগঞ্জ সদর আসনের এমপি এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন,আমার নির্বাচনী এলাকার প্রধান সদস্যাটাই হচ্ছে নদী ভাঙন। নদীভাঙন কাউকে বলে কয়ে আসেনা। এটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে। তিনি ভাঙন রোধকল্পে জাতীয় সংসদে একাধিকবার বক্তব্য রেখেছেন ও মন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে ধৈর্য্যরে সাথে একযোগে সক্রিয় হয়ে কাজ করার আহবাণ জানান।

আপনার মতামত লিখুন :