জামালগঞ্জে নার্সারী ব্যবসায় লাভের মুখ দেখছে হারুন

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:০১ PM, ১০ জুন ২০২১

মো.ওয়ালী উল্লাহ সরকার,জামালগঞ্জ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় নার্সারী ব্যবসায় অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছে মো. হারুন মিয়া। তিনি নার্সারী ব্যবসার মাধ্যমে অভাবকে জয় করে গোটা পরিবারের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে ১ কিলোমিটার দূরের তেলিয়া লামাপাড়ার আব্দুর রহমান স্কুলের পাশে গেলেই হামিম-সানী ভাই ভাই সাইনবোর্ডটি সকলের নজরে পড়বে। এ ব্যবসাকে সম্মানজনক অবস্থানে আনতে স্বামী-স্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে গেছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রোদের মাঝে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে নার্সারীতে গাছের চারা পরিচর্যা করছেন। এর সাথে পরিচর্যায় ব্যস্ত আছেন নার্সারী শ্রমিক আব্দুল হান্নান। তিনি জানান, নার্সারী চালু করার পর থেকেই সে এখানে কাজ করে আসছেন। নিয়মিত কাজ থাকায় তার আর বসে থাকতে হয় না। পারিশ্রমিকও পান ভালো। বসতবাড়ির সাথেই স্থাপন করা নার্সারীতে কাজ করেন তারা। এই নার্সারীর সফলতায় অনেকে নার্সারী ব্যবসার স্বপ্ন দেখছেন।

নার্সারী ব্যবসায়ী মো. হারুন মিয়া জানিয়েছেন, ২০ বছর আগ থেকে ছোট পরিসরে নার্সারী ব্যবসা শুরু করি। মাত্র ২ শতাংশ জমিতে শুরু হয় আমার নার্সারী ব্যবসা। বর্তমানে ৫ শতাংশ জমিতে চলছে বিভিন্ন জাতের ফল, ফুল ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন। এখন প্রতি বছর কয়েক লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করেন তিনি। কম পরিশ্রমে লাভ বেশি হওয়ায় এ ব্যবসার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে তার। বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি বাজারে তার নার্সারীর চারা বিক্রি হয়। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক প্রজাতির গাছের চারা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে থাকেন। তার নার্সারীতে রয়েছে নানা প্রজাতির ফল, ফুল, ঔষধী ও কাঠজাতীয় গাছের চারা।

হারুন মিয়ার স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম জানান, আমরা স্বামী স্ত্রী ও একজন শ্রমিকসহ নার্সারীতে কাজ করি। বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করে আমার স্বামী তা বাজারে বিক্রি করেন। প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আমাদের লাভ হয়। তা দিয়ে সংসারের খরচ চালিয়ে বাকি লভ্যাংশ নার্সারীর পুঁজিতে বিনিয়োগ করি। বর্তমানে আমাদের নার্সারীতে ফল, ফুল, ওষধী ও কাঠজাতীয় গাছের চারাসহ প্রায় ৩ হাজার চারা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাশরেফুল আলম বলেন, নার্সারী ব্যবসা এখন একটি লাভজনক ব্যবসা। বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে অনেকেই লাভের মুখ দেখছেন। এতে করে অত্র উপজেলার বিভিন্ন জাতের গাছের চারার চাহিদা পূরণ হচ্ছে। নার্সারীতে যাতে মানসম্মত চারা উৎপাদন হয় সে জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :