জামালগঞ্জে ইট ভাঙ্গা শ্রমিকদের নারী পুরুষ তারতম্য

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:২২ PM, ০৬ জুন ২০২১

মোঃ ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুজুরী কাঠামো নির্ধারিত না থাকায় শ্রমিকরা পর্যাপ্ত শ্রমের মূল্য পাচ্ছে না। এমনকি একই পেশায় মুজুরীদের দেখা যায় নারী পুরুষের তারতম্য। বৈষম্যের শিকার হচ্ছে নারী শ্রমিকরা। দিন দিন জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে মাথাপিছু আয়ের বিস্তর পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু পরিবর্তন নেই তাদের মুজুরী ও জীবনযাত্রায়।

জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়া লামাপাড়া গ্রামের রেহানা বেগম (৪২) জানায়, আগে বাসাবাড়িতে কাম করতাম। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে দুইটা মেয়ে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। তাই অন্যের বাসায় মাসে ১ হাজার টাকায় কাজ করতাম। ইট ভাঙ্গার কামে খাটনী আসে বহুত। কিন্তু দিনের টাকা দিনে পাই। কষ্ট খালি বেটা মাইনষ্যের সমান কাম কইরা তাগ চেয়ে কম পাই।

একই সাথে একই গ্রামের বাবুল মিয়া (৪০) জানান, মালিকের কাছে কাজ করলে ইট ভাঙ্গায় প্রতি সেপটিকে ২০ টাকা দেয়। তাই তিনি মাঝে মাঝে বেশি মুনাফার লোভে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের ইট ভাঙ্গেন। যদিও মেশিনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে ইট ভাঙ্গার কাজে। সেক্ষেত্রে খাটনীও কম, মজুরীও কম।
গত বিশ বছর ধরে ইট ভাঙ্গার কাজে নিয়োজিত রসিদ আহমদ বলেন, আগে আধলা ভাঙ্গনে পাইতাম ১০ টাকা। আর নতুন ইট ভাঙ্গনে পাইতাম প্রতি ফুটে ১৫ টাকা। এখন তার চেয়ে প্রতি ফুটে ১০ টাকা বেশি পাই। কিন্তু জিনিপত্রের যা দাম, তা দিয়ে সংসার কোনরকম চলে।

নারী-পুরুষ মজুরির তারতম্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইট ভাঙ্গার মালিক আতাউর রহমান বলেন, তিনি এত নিয়ম-কানন জানেন না। আগে থেকে এ নিয়মেই টাকা দেওয়া হয়। তাই দিন শেষে নারীরা যত সেপটিক ইট ভাঙতে পারে সেই তুলনায় টাকা দেওয়া হয়। নারীরা দৈনিক ১৫ থেকে ২০ ফুট ইট ভাঙতে পারে আর পুরুষেরা ২৫ থেকে ৩০ ফুট ইট ভাঙতে পারে। নারী শ্রমিকেরা প্রতিজনে দিনে ৩০০ টাকার মতো পায়। পুরুষেরা পায় ৫০০ টাকা। কারণ নারীর চেয়ে পুরুষেরা বেশি কাজ করতে পারে। শুধু আমি না আরও যারা ইট ভাঙায় তারাও আমার মতো মুজুরি দেন।

শ্রম আইন সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনে অনেক ফাঁকফোকর আছে। এই শ্রমিকরা শ্রমিক হলেও তারা শ্রম আইনের আওতাভুক্ত নয়। তাই শ্রম আইনের কোন নীতিমালা আমরা জানি না।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, এখানে ইট ভাঙ্গা শ্রমিকদের কোন সংগঠন নেই। তাই তাদের দাবিগুলো তারা তুলে ধরতে পারেন না। যার কারণে তারা শ্রম আইনে সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন না।

আপনার মতামত লিখুন :