ঢাকাসোমবার , ৩ মে ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. দিরাই শাল্লার খবর
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিনোদন
  10. মুক্ত মতামত
  11. মুক্তমত
  12. মৌলভীবাজার
  13. রাজনীতি
  14. লিড নিউজ
  15. শিক্ষা

ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় দিবস

কালনী ভিউ
মে ৩, ২০২১ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কালনী ভিউ ডেস্ক::
অষ্টম হিজরির ২০ রমজান। ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিন প্রিয়নবি সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নামের প্রিয় মাতৃভূমি মক্কা বিজয় হয়। তিনি মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে দশ হাজার সাহাবা নিয়ে ১০ রমজান রওয়ানা হন। ২০ রমজান তিনি পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশ করেন। রক্তপাতহীনভাবে এ নগরী বিজয় লাভ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এ বিজয় ‘ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থিত বায়তুলস্নাহ বা কাবাঘর তাওহিদের কেন্দ্রভূমি। যা সর্বপ্রথম হজরত আদম আলাইহিস সালাম নির্মাণ করেছিলেন। অতঃপর বর্তমান কাবাঘর আলস্নাহর নির্দেশে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নির্মাণ করেছিলেন।

মক্কায় অবস্থিত পবিত্র স্থান বায়তুলস্নাহকে মূর্তি পূজা ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত করে শুধু আলস্নাহ তাআলার ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করতে তিনি পবিত্র রমজান মাসকে উপযুক্ত সময় মনে করেন। সে লক্ষ্যে ১০ রমজান মদিনা থেকে দশ হাজার সাহাবা নিয়ে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন। ২০ রমজান প্রিয়নবি সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম বিনা রক্তপাতে পবিত্র ভূমি মক্কা বিজয় করেন।

মদিনার মুসলিম বাহিনী যখন মক্কার কাছাকাছি পৌঁছে, তখন মক্কার নেতা আবু সুফিয়ান তা দেখতে গোপনে সেখানে উপস্থিত হলে মুসলিম বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। তবে হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাকে ক্ষমা করে দেন। আবু সুফিয়ান প্রিয়নবি সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নামের এ মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক ইসলাম গ্রহণ করেন।

শুধু তাই নয়, প্রিয়নবি সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় লাভ করার পর সেখানে অধিবাসীদের প্রতি কোনোরূপ প্রতিশোধ গ্রহণ না করে মুসলমানদের নিরাপত্তার স্বার্থে ও শৃঙ্খলার জন্য শর্তসাপেক্ষে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। প্রিয়নবির ঐতিহাসিক সে ঘোষণাটি ছিল এমন- যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং দরজা বন্ধ রাখবে, তারা নিরাপদ। মক্কার নেতা আবু সুফিয়ানের ঘরে যারা অবস্থান করবে, তারাও নিরাপদ, পবিত্র কাবাঘরে যারা আশ্রয় গ্রহণ করবে তারাও নিরাপদ।

প্রিয়নবি সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম মক্কায় প্রবেশ কালে কোরআনুল কারিমের প্রথম সুরা ‘সুরা ফাতিহা’ তেলাওয়াত করতে থাকেন। তার এ আগমনে মহান আলস্নাহর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিনয়-নম্রতা প্রকাশ পায়।

প্রিয়নবি সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওহিদের মর্যাদা রক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি পবিত্র কাবা ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম মূর্তিগুলোকে বাইরে ছুড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। সে সময় কাবাঘরে ৩৬০টি মূর্তি রক্ষিত ছিল। কাবাঘরের দেয়ালে ছিল অংকিতচিত্র। এ সবই তিনি প্রথমে নিশ্চিহ্ন করে দেন।

পবিত্র কাবাঘরকে শিরকের নোংরামি ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করার পর তিনি উচ্চস্বরে তাকবির ধ্বনিসহ কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন। তার এ তাওয়াফ ও তাকবির ধ্বনিই ছিল মক্কায় বিজয়ের উৎসব ও স্স্নোগান।

আর তা দেখে মক্কাবাসীর অন্তর চোখ খুলে যায়। তারা অনুভব করতে সক্ষম হয় যে, এতবড় বিজয় উৎসবেও তারা কোনো শান-শওকতের পথ গ্রহণ না করে অত্যন্ত বিনয়াবনত মস্তকে আলস্নাহ প্রশংসা ও কাবা ঘর তাওয়াফ করে আলস্নাহর শ্রেষ্ঠত্বই ঘোষণা করছে। এ বিজয় প্রকৃত পক্ষেই তাওহিদের বিজয়।

প্রিয়নবি সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম মক্কা বিজয়ের পর এক ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন। সে ভাষণের শুরুতেই তিনি তাওহিদের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এক আলস্নাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তার কোনো শরিক নেই। তিনি তার সব ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন। তিনি তার বান্দাদের সাহায্য করেছেন এবং সমস্ত শত্রুবাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।’

জেনে রাখুন! গর্ব ও অহংকার, আগের সব হত্যা ও রক্তপাত এবং সব রক্তমূল্য আমার পায়ের নিচে। শুধু পবিত্র কাবাঘরের তত্ত্বাবধান এবং হাজিদের পানি সরবরাহ এর ব্যতিক্রম।

হে কুরাইশ সম্প্রদায়! অন্ধকার যুগের সব আভিজাত্য ও বংশ-মর্যাদার ওপর গর্ব-অহংকার প্রকাশকে আলস্নাহ নিষিদ্ধ করেছেন। সব মানুষ এক আদমের সন্তান আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি থেকে। অতঃপর প্রিয়নবি সুরা হুজরাতের ১৩নং আয়াত তেলাওয়াত করেন। আর তাহলো, ‘হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের নানা গোত্র ও জাতিতে বিভক্ত করে দিয়েছি, যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে পার। কিন্তু আলস্নাহর নিকট সম্মানিত হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে অধিকতর আলস্নাহকে ভয় করে। আলস্নাহ মহাবিজ্ঞ ও সর্বজ্ঞ। (সুরা হুজরাত : ১৩)

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।