দিরাই’র কৃষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ: হাওরের ধান কাটা শেষপর্যায়ে

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:২৪ PM, ০২ মে ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক::
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাওর এলাকায় বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে।

উপজেলার বিভিন্ন হাওরে শনিবার (১ মে ) পর্যন্ত প্রায় ৯৭ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে অবশিষ্ট ধানগুলো তোলা সম্ভব হবে বলে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৮৯ শতাংশ হাওর বেষ্টিত উপজেলা দিরাই।

এই উপজেলার কৃষকদের সারা বছরের একমাত্র ফসল হচ্ছে বোরো ধান। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এই বছর ৩০ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়। যা গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। গত বছর ২৭ হাজার ৭৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এবার ধানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। চালে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজার মুল্য ৪৫০ কোটি টাকা। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগাম বন্যা কিংবা বড় ধরণের প্রকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় তারা দ্রুত ঘরে ধান তুলতে পেরেছেন। সর্বত্র ধান কাটা, মাড়াই ও ধান সেদ্ধ করে তা শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কোথাও কৃষি শ্রমিক, কোথাও আবার সরকারের ভর্তুকি দেওয়া কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। ধান কাটা ও মাড়াই শেষে গোলায় তোলা হাওর এলাকার কৃষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে উৎসবের মাঝেও ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কৃষকরা।

আলাপকালে কয়েকজন কৃষক জানান, হাওরে এখন ধানকাটা প্রায় শেষের দিকে। দরিদ্র কৃষকেরা মহাজনসহ বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে ফসল ফলান। ফসল তোলার পর ঋণ পরিশোধের জন্য তারা দ্রুত ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। ন্যায্য মূল্য না পেলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

কালিয়াগুটা হাওরের কৃষক সামীন নুর বলেন, ‘কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় খরচ বেশি। এবার লাভ হবে না। নিজের জমি পতিত থাকবে তাই নিজেই করি। লাভ না হলেও করতে হয়।’

টাংনীর হাওরের কৃষক আলীনূর চৌধুরী বলেন,‘১ কেয়ার জমিতে ধান পাইছি ২০ মন। খরচ হয়েছিল ১০ হাজার। লাভ হয়েছে ৫ হাজার। কোনো জমিতে আরো বেশি লাভ হয়েছে। এই বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় ভালভাবেই ফসল ঘরে তুলতে সম্ভব হয়েছে।

দিরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৯৭ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে অবশিষ্ট ধান তোলা সম্ভব হবে। এবার ফলন ভালো হয়েছে। ১ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হবে আশা করছি।’

আপনার মতামত লিখুন :