ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ এপ্রিল ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. দিরাই শাল্লার খবর
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিনোদন
  10. মুক্ত মতামত
  11. মুক্তমত
  12. মৌলভীবাজার
  13. রাজনীতি
  14. লিড নিউজ
  15. শিক্ষা

কে দিবে আমাদের ঈদের নতুন জামাঃ দিরাইয়ে বজ্রপাতে নিহত দুই পরিবারের সন্তানদের আহাজারি

কালনী ভিউ
এপ্রিল ২৯, ২০২১ ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিনিধি::
নিষ্ঠুর নিয়তি। কে জানতো হাওরে সোনার ফসল ঘরে তুলতে গিয়ে একই পরিবারের আপন দুই ভাই লাশ হয়ে ঘরে ফিরবেন! পরিবারের সুখের জন্য হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ফলিয়েছিলেন সোনার ফসল,আর ফসল আনতে গিয়ে বজ্রপাত কেড়ে নিল দুই ভাইকে।

দিনমুজুর ফখরুল ইসলাম ও ফজলু মিয়া। তারা অন্যের কিছু জমি বর্গাচাষ করেন। বর্গায় চাষকৃত জমির সোনালী ধান ঘরে তুলতে তারা বুধবার সকালে ধান কাটতে হাওরে গিয়েছিলেন। সাথে নিয়ে ছিলেন আরো ৩ জন শ্রমিক। কিন্তু সোনালী ধান তাদের ঘরে তুলা হলো না। সন্তানদের কাছে ফিরলেন লাশ হয়ে। শোকের মাতম দুই দিনমজুরের পরিবারে। দিশেহারা তাদের সন্তানেরা। তাদের সন্তানদের প্রশ্ন ঈদে আমাদের কে নতুন জামা দেবে?

বুধবার সকাল ৮ টায় শুরু হওয়া বৃষ্টি ও বজ্রপাতে একই পরিবারের দুই ভাই হাওরে নিজের জমির ফসল কাটতে আরও তিন জনকে নিয়ে গিয়েছিল। বজ্রপাতে ধান ক্ষেতেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। সাথে থাকায় অপর ৩ জন শ্রমিকও গুরুতর আহত হন।নিহতরা হলেন মধুরাপুর গ্রামের আব্দুল মনাফের ছেলে ফখরুল ইসলাম (৪৮) ফজলু মিয়া (৪৫) আহতরা হলেন একই গ্রামের লাদেন চৌধুরী (২২) সাজনুর (৫৫) হাবীব (৩৫) আহতদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চলছে।
নিহত ফখরুল ইসলামের ৩ মেয়ে, ১ ছেলে। এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বাকিরা সবাই ছোট। অপর ভাই ফজলু মিয়ার ২ ছেলে ৩ মেয়ে। তাদের পিতাদের হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। পরের জমি রং জমা নিয়ে ৫ কেয়ার জমি করেছিল দুই ভাই। আজ ধান কাটার জন্য আরও ৩ জন শ্রমিক নিয়ে সকালে ধান কাটার জন্য জমিতে গেলে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। কোথাও আশ্রয় নেওয়ার আগেই দুই ভাই নিহত ও ৩ জন আহত হয়।
নিহতদের পরিবারের ছেলে মেয়েরা বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। তারা কেঁদে কেঁদে বারবার মুর্ছা যাচ্ছে আর বলছে কে আমাদের ঈদের নতুন কাপড় দেবে? আমাদের সব শেষ। আমাদের জন্য কে মজা আনবে? আমাদের ভাত দিবে কে?এমন পরিস্থিতিতে তাদের শান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই কারো। নিহত ফখরুল ইসলামের স্ত্রী রহিমা বেগম ৪ সন্তান নিয়ে এখন চোখে ঘোর অন্ধকার দেখছেন একমাত্র ছেলে মুরাদ (১০), ৩ মেয়ের মধ্যে পলি (২০) কে বিবাহ দিয়েছেন, হীরা বেগম (১৬) ও ময়না (৮) এদের লেখা পড়া ও সংসারের খরচ কে চালাবে এ চিন্তাই করছেন তাদের মা। অপর দিকে নিহত ছোট ভাই ফজলু মিয়া দিনমজুর স্ত্রী, ২ ছেলে ৩ মেয়ে। ওহি (২) কোলের শিশু মিজান (১) , ৩ মেয়ে লিজা (১৪) জাফরিন (৭) ও পারভিন (৫) কে নিয়ে কিভাবে চলবেন এই বলে আহাজারি করছেন স্ত্রী রাজমিনা বেগম। বাচ্চারা কান্না করছে আর বারবার বলছে, কে দিবে আমাদের ঈদের নতুন জামা, কে দিবে আমাদের লেখাপড়ার খরচ। এ খবর পেয়ে নিহতদের পাশে সরকারের পক্ষ থেকে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন উভয় পরিবারের মধ্যে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং আহত ৩ জন শ্রমিক কে চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। ভবিষ্যতে এই পরিবার গুলোর পাশে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন নির্বাহী কর্মকর্তা। এমন নির্মম ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম বইছে। এদের শান্তনা দেওয়ার ভাষা কারো নেই।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।