ঢাকাশনিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. দিরাই শাল্লার খবর
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিনোদন
  10. মুক্ত মতামত
  11. মুক্তমত
  12. মৌলভীবাজার
  13. রাজনীতি
  14. লিড নিউজ
  15. শিক্ষা

প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে দিরাইয়ের হাওরে

কালনী ভিউ
এপ্রিল ২৪, ২০২১ ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সৈদুর রহমান তালুকদার::
প্রতি বছর কোন না কোন কারণে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে যায় বৈরী আবহাওয়া, অকাল বন্যা নিমিষেই তলিয়ে যেতো সোনার ফসল। শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষক তার পরিশ্রমের সোনার ফসল কেটে ঘরে তুলার আগেই তলিয়ে যেতো পানিতে। সেই সময়ে মানুষের মুখে মুখে শোনা যেত আল্লাহ বাঁচাইলে আগামী বছর আর গৃহস্থী করমুনা। গৃহস্থী কইরা পথে বসতে ঐইবো। সেই ভয়ে গ্রামের বড় বড় কৃষক কৃষি কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় লেগেছেন। অনেক এলাকায় কৃষি জমি পতিত পড়ে থাকতো।

বিজ্ঞানের আর্শীবাদে সেই দুঃখের দিন শেষ হয়ে সুখের দিন নিয়ে এসেছে। নিয়ে এসেছে আধুনিক প্রযুক্তি ধান কাটার মেশিন। কৃষক আবার কৃষি কাজে ফিরে আসছেন, আসবেন হাওরে আর শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকের সোনার ফসল কাটার অভাবে পানিতে তলিয়ে যাবে না। দিরাই উপজেলার প্রতিটি হাওরে ছড়িয়ে আছে ৫০ টি আধুনিক ধান কাটার মেশিন (হারভেষ্টার) অল্প খরচে কৃষক ধান কাটা ও মারাই একসাথে করতে পেরে মহা খুশি।

প্রতি একর জমির ফসল শ্রমিক দিয়ে কাটালে যেখানে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ পড়তো সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ধান কাটার মেশিন দিয়ে ধান কাটা ও মারাই একসাথে করতে পারছেন ১৫ শ থেকে ২ হাজার টাকা দিয়ে। এতে খুশি হাওর পাড়ের কৃষক। ধীরে ধীরে স্বপ্ন দেখছেন আবার পুরোদমে কৃষি কাজে ফিরে আসতে।

দিরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এক ফসলী হাওরের দুয়ার দিরাই উপজেলার পক্ষ থেকে স্বাগতম। ৮৯% হাওর বেষ্টিত এই উপজেলা এবছর ৩০,১১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় ৮% ( ২৭,৭৭৬ হেক্টর) বেশি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ইনশাআল্লাহ এবছর ১,২৭,৬৬৩ মেঃ টন চাল যার আনুমানিক মুল্য ৪৫০ কোটি টাকার অধিক উৎপাদন হবে বলে আশাকরা যাচ্ছে।

কৃষকের সোনার ফসল ঘরে তুলতে যতধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা দরকার সরকারের পক্ষ থেকে তা করা হবে ইনশা আল্লাহ। গত ২৩ মার্চ মাননীয় জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন মহোদয় ৫ টি হারভেষ্টার উদ্বোধন করেন এবছর ৩০ টি হারভেষ্টার মাঠে রয়েছে।

এছাড়া বিগত বছরের ২৫ টি ও ভাড়ায় ৫টি যন্ত্র মাঠে রয়েছে। ফলে প্রতিদিন ২০০ হেক্টর বেশি জমি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কৃষকের সোনার ফসল কর্তন হবে। প্রতি বছর শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষক সময় মতো তার সোনার ফসল কর্তন করতে পারতেন না সেখানে সরকার ৭০% ভর্তুকি দিয়ে প্রতিটি হারভেষ্টার কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষক তার পরিশ্রমের সোনার ফসল কর্তন করতে পারছে এবং অন্যের জমি ও কর্তনে সহযোগিতা করতে পারছেন।

তিনি আরো বলেন, উপজেলায় এবছর ২২ হাজার ৭০৮ জন শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। যার মধ্যে ১২৭০৮ জন স্হানীয় শ্রমিক রয়েছে। ৭০ হারভেষ্টার ৫০৪০ জন যান্ত্রিক শ্রমিক। বহিযাগত ৩৬৭৬ জন শ্রমিক আসবে। তাদের আসা যাওয়া থাকা ও করোনাকালিন স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি কমিটির তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

কৃষক রুহুল আমিন, প্রশান্ত চৌধুরী, নিকেশ তাং, শাহীন চৌধুরী ৭০% ভুর্তুকি দিয়ে ধান কাটার আধুনিক মেশিন নিয়েছেন। তারা বলেন, প্রতি বছর গৃহস্থী কইরা পথে বসার উপক্রম হয়েছিল। বাপ- দাদারা এই হাওরের মাটিতে সোনার ফসল ফলাতেন আমরাও তাদের উত্তরসূরী হিসেবে কৃষি ই প্রধান কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছি। শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকের সোনার ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতো পানিতে সেই কষ্ট থেকে একসময় ভাবছিলাম আর কৃষি কাজ করবো না। জমি পতিত পড়ে থাকতো। প্রযুক্তি আমাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এই স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। একটি মেশিন কিনতে যেখানে ২৩/২৪ লক্ষ টাকা লাগে সেখানে ৭০% ভুর্তুকি দিয়ে সরকার আমাদের দিচ্ছেন। এই জন্য সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানাই হারিয়ে যাওয়া কৃষি কাজ কে আবার ফিরিয়ে আনতে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এতো সহজে আমাদের সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারছি। ঘন্টায় ১.৫ একর জমির ফসল কর্তন ও মারাই দেওয়া যায়। বিজ্ঞানের আর্শীবাদে আমরা পেয়েছি ধান কাটার আধুনিক মেশিন।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।