কী ভাবছে হেফাজত?

কালনী ভিউকালনী ভিউ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৪ PM, ১৮ এপ্রিল ২০২১

কালনী ভিউ ডেস্ক::
হেফাজতকে নিয়ে প্রশাসন তৎপর। দিনে দিনে বাড়ছে গ্রেপ্তারের সংখ্যা। এরপর কোন নেতা গ্রেপ্তার হবে এমন প্রশ্নই ঘুরছে নেতাকর্মীদের মনে। সর্বশেষ রোববার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের পর কেন্দ্রীয় কোনও নেতাকেই আর পাওয়া যাচ্ছে না। ফোন খোলা থাকলেও রিসিভ করছেন অন্যকেউ। মামলা থেকে বাঁচতে গা ঢাকা দিয়েছেন তারা।

তবে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের একাধিক সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হলেও এই লকডাউনের মধ্যে রমজান মাসে কোনও কর্মসূচি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে সংগঠনটির। এ ক্ষেত্রে আপাতত আইনি পথ ও বিবৃতি দিয়েই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানানোর চিন্তা রয়েছে হেফাজতের।

এর আগে মামুনুল হককে পুলিশের গাড়ি থেকে মক্ত করেছিলো হেফাজত নেতাকর্মীরা। মামুনুলকে আটকের পর সংগঠনটি কি কর্মসূচি দেয় এ নিয়ে ছিলো নানা গুঞ্জন। জানতে চাইলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউনে নেমেছে স্পষ্ট। হেফাজত নিয়মতান্ত্রিক, সংঘবদ্ধ কোনও সংগঠন নয়, একটি ফোরামের মতো আছে। আমি যতদূর জানি, এখনই এই পরিস্থিতিতে কোনও কর্মসূচি দেবে না হেফাজত। করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউন এবং পাশাপাশি রমজান মাস চলছে। ফলে এখনই কর্মসূচি দেওয়ার সুযোগ নেই।’

মাওলানা মামুনের গ্রেফতারের পর তার দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে কর্মসূচি দেওয়া না হলে দলীয়ভাবেও প্রতিবাদ সীমিত রাখা হতে পারে।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা বলছেন, মামুনুলের গ্রেফতারের পর থেকে ঢাকার নেতারা অনেকটা গা ঢাকা দিয়েছেন। নিজেদের ফোন বন্ধ রেখে যে যার মতো নিরাপদে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

সরকারের প্রভাবশালী একটি সংস্থার সূত্র জানায়, হেফাজতের নেতাদের ধরপাকড় প্রক্রিয়া আরও চলবে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনের সময় গত ২৫, ২৬, ২৭ মার্চ তিন দিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে নাশকতা চালানো হয়েছে, এসব নাশকতার পেছনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যাদের ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরই আইনের আওতায় আনবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

হেফাজতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা আইনগতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার করার চিন্তা করছি। ইতোমধ্যে পারিবারিকভাবে আইনি পথে সহযোগিতা নেওয়া শুরু হয়েছে। এটা আমরা সাংগঠনিকভাবেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।’

হেফাজতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো হেফাজতে ভীতসন্ত্রস্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। কখন কাকে ধরবে পুলিশ, এ নিয়ে বিস্তর দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে সেখানে অবস্থানরত নেতাদের। স্থানীয় নেতারা ইতোমধ্যে নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে গোপনে অবস্থান করছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তেই যেতে পারছেন না মাওলানা বাবুনগরী ও হেফাজতের শীর্ষনেতারা।

তবে আজ বিবৃতির মাধ্যমে মামুনুল হকসহ অন্যদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাতে পারেন হেফাজতের আমির মাওলানা বাবুনগরী।

হেফাজতের আমির প্রেস সেক্রেটারি মাওলানা ইনআ’মুল হাসান ফারুকী বলেন, ‘কর্মসূচি বা বিবৃতির বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা আমি জানি না। আমিরে হেফাজত পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কোনও সিদ্ধান্ত হলে আমরা জানিয়ে দেবো।

আপনার মতামত লিখুন :