ঢাকাশুক্রবার , ১৯ মার্চ ২০২১
  1. অর্থনীতি
  2. আইটি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. দিরাই শাল্লার খবর
  7. ধর্ম
  8. প্রবাস
  9. বিনোদন
  10. মুক্ত মতামত
  11. মুক্তমত
  12. মৌলভীবাজার
  13. রাজনীতি
  14. লিড নিউজ
  15. শিক্ষা

শাল্লায় তাণ্ডবের নেতৃত্বে কারা?

কালনী ভিউ
মার্চ ১৯, ২০২১ ৬:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কালনী ভিউ ডেস্ক:
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুদের বাড়িঘরে গত বুধবারে চালানো হামলা-ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় পুলিশ কাউকে চিহ্নিত করতে না পারলেও গ্রামবাসীদের মুখে উঠে এসেছে কয়েকজনের নাম। এ সময় তাণ্ডব চালানোর এক মূহুর্তে বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতও ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলো তারা। তবে নগদ অর্থ, মোবাইল ও স্বর্ণে বাঁচে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের ক্ষত বয়ে বেড়ানো সেই ঘরগুলো।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালে শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। তারা শাল্লায় হামলাকারীদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার অন্তর্গত তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শহিদুল ইসলাম স্বাধীন ওরফে স্বাধীন মিয়া ও তার আত্মীয় ফখরুল ইসলাম পক্কনের নাম বার বার উচ্চারণ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র দাশ বলেন, ‘হামলার আগেই আমি আমার পরিবারকে সরিয়ে ফেলেছিলাম, পরে তারা ঘরও ঢুকে সকল জিনিসপত্র নিয়ে ভাঙচুর করেছে। এমনকি সব কাপড়-চোপড়ও নিয়ে গেছে। এর এক পর্যায়ে তারা আমার বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। পরে আমি দৌড়ে বাইরে আসি। তখন তারা আমার কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা আর মোবাইল ফোনটি নিয়া যায়।

‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, এমন কথা বলার পরও তারা আমাকে পিটিয়েছে। তাদের মধ্যে আমি দুইএকজনকে চিনেছি। তাদের একজন স্বাধীন মিয়া ও অপরজন পক্কন। তারা দুইজনই একে অপরের আত্মীয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও পল্লী চিকিৎসক পরিতোষ সরকার বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানতে পারি, তারা যাদের চিনতে পেরেছেন তারা হল নাচনী গ্রামের স্বাধীন মিয়া, পক্কন, ইয়ামত আলী, ইনাত আলী, মির্জা হোসেন, কেরামত, নেহার আলী, ফখর আলী, আলম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন।’

এদিকে এই হামলার কিছু ভিডিও ও বেশ কিছু স্থিরচিত্রও পাওয়া গেছে।

ঘটনার সকালের বর্ণনা দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি হামলার সময় ঘরেই ছিলাম, ঘর ছাড়ছি না। তবে যখন দেখি প্রাণে বাঁচতে পারি না, তখন সব খুলিয়া দিয়া দেলাইছি। কইছি, টাকা পয়সা লইয়া যা তবুও আমারে বাঁচাইয়া দে।’

আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা জন্টু দাস নিজেদের নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে বলেন, ‘যখন হামলা হয় আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমি আমার স্ত্রীকে ফোনে বলেছি, তাকে বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে বেড়িয়ে যেতে। তবে সে যাবার সময় টাকা-পয়সা নিয়ে যেতে পারেনি।। আমার ঘর ভাঙার পর তারা আমার রুমে প্রবেশ করে ড্রয়ার ভেঙে ৮০ হাজার টাকা নিইয়ে গেছে। আমাদের এখন আর কোনো নিরাপত্তা নেই।’

এই ঘটনায় পুলিশ যে মামলা করেছে তাতে দেড় হাজার জনকে আসামি করলেও তাতে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল শহিদুল ইসলাম স্বাধীনকে প্রধান আসামি করে ৮০ জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং ১০০ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘ এ ঘটনায় ২২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনায় মামলা হয়েছে আমরাও আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছি। তবে পুলিশ চিহ্নিতদের খোঁজে বের করতেই কিছুটা সময় লাগছে।’

প্রসঙ্গত,  হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক গত ১৫ মার্চ দিরাইয়ে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বক্তৃতা করেন। ওই সমাবেশে তার কিছু বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের এক তরুণ। তিনি মামুনুলের সমালোচনা করে মঙ্গলবার ফেসবুকে আপত্তিকর একটি পোস্ট দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই পোস্টকে কেন্দ্র করে দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় উত্তেজনা দেখা দেয়। হেফাজতে ইসলাম ও মামুনুল হক অনুসারীরা এমন পোস্টে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই ঘটনায় বুধবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল আহ্বান করে হেফাজতে ইসলাম।

তবে আগের রাতেই উত্তেজনা আঁচ করতে পেরে নোয়াগাও গ্রামবাসী ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত তরুণকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের প্রায় সবাই দরিদ্র হিন্দু। ফলে আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের মানুষজনের মধ্যে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।